ভূমিহীন বৃদ্ধার হাতে দলিলসহ ঘর বুঝিয়ে দিলেন পলক
আট মাসের মধ্যেই ভূমিহীন ভিক্ষুক জীবন থেকে নিজের ঘরের সঙ্গে বাড়ির দলিল হাতে পেলেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের হাসপুকুরিয়া গ্রামের বিধবা বৃদ্ধা সাজেদা বাওয়া। নিজ নির্বাচনী এলকায় সামাজিক দায়িত্ব পালন ও গণসংযোগের মাধ্যে বুধবার বিকেলে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত পাকা ঘরসহ ২ শতক জায়গার দলিল এই বৃদ্ধার হাতে বুঝিয়ে দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এসময় বৃদ্ধা তাকে ফুলের মালা দিলে তিনি সেটি বৃদ্ধার খোঁজ দেওয়া সাংবাদিক আদ দ্বীন সজীবকে দেয়ার পরামর্শ দেন। প্রতিমন্ত্রী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যেসকল মানবিক সাংবাদিক কলম, ক্যামেরা ও মেধা দিয়ে যদি দেশপ্রেমিক সাংবাদিক প্রতি ঘরে জন্ম নিতো তাহলে দ্রুতই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হতো।
মন্ত্রী জানান, বেদখলকৃত জায়গা উদ্ধার করে এই ঘর তৈরি করে দেয়া হলো। আজ আরো ৮ জনকে ঘর দেয়া হয়েছে। আরো ভূমিহীনদে ঘর করে দিতে ৬০ শতাংশ জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সারা দেশের কয়েকশ কোটি টাকার জমি উদ্ধার করে সরকার এরই মধ্যে আশ্রয়হীনদের দিতে পেরেছে। সিংড়া পৌরসভার একটি জায়গাতেই ৬৮টি ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৪০০টি ঘর সিংড়াবাসিকে উপহার দিয়েছেন। এটা নেতৃত্বে সুদূরপ্রসারি সিদ্ধান্ত। এর ফল চার-পাঁচ বছর পরে পাওয়া যাবে।
পলক জানিয়েছেন, এখন প্রতিবন্ধীদের ভাতার আবেদন ও যাচাই-বাছাইও অনলাইনে হয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদে তালিকা পাঠিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই সরকারের সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে কেউ যেন গৃহহীন ও অভূক্ত না থাকে সে জন্য কাজ করবেন তিনি।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইমরান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন সরকার প্রমূখ।
ভূমিহীন সাজেদা বেগম তার স্বামীর গ্রামে মাথা গোঁজার ঠাই পেয়ে আনন্দিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইউএনও মাহমুদা খাতুন বলেন, জমিজমার ঝামেলায় ঘর ছেড়ে রাজধানী ফুটপাতে আশ্রয় নিয়ে ভিক্ষা করে জীবন যাপন শুরু করেন সিংড়ার অসহায় নারী সাজেদা বেগম। বিষয়টি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তার কাছে ঝুটে যান মন্ত্রী। পরে আইসিটি প্রমিন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনায় ভূমিহীনদের উপহার ঘর দেওয়া হয়। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর ও দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিন উপজেলার ১ হাজার ৯৯৩টি পরিবার পেয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ১নং সুকাশ ইউনিয়ন এবং ১২নং রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সভায় তিনি বলেন, মাত্র ১৪ বছরের ব্যবধানে সিংড়া আজ আলোকিত জনপদে পরিণত হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে, প্রতিটা ইউনিয়নে আধুনিক পাকা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটা গ্রাম ও ইউনিয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই ও উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের তরুণদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও চলনবিল স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে।







